বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার প্রাথমিক চিকিৎসা


প্রাথমিক চিকিৎসা কী বা কাকে বলে? ও প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা


হঠাৎ করে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে চিকিৎসক কর্তৃক স্বস্তাধিক চিকিৎসা দেয়ার পূর্ব পর্যায় যে উপশম ও প্রতিরােধমূলক সহায়তা দেয়া হয় , থাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলে ।

প্রয়ােজনীয়তা
প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ
১ । মৃত্যু ঝুকি , হ্রাস পায় ।
যেমন - বৈদ্যুতিক শকপ্রাপ্ত এবং পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তির স্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে তা করে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা । হঠাৎ মূৰ্ছা যাওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রেও তা প্রযােজ্য ।
২ । অসুস্থতার  ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস করা । যেমন - বৈদ্যুতিক শকপ্রাপ্ত ব্যক্তির শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখা , কেটে যাওয়া স্থানের রক্তক্ষরণ বন্ধ করা বা সীমিত করা ।
৩ । আঘাতপ্রাপ্ত বা অসুস্থ ব্যক্তির মনােবল অটুট রাখা । যেমন - আঘাতপ্রাপ্ত বা অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসাকারীর কথায় আশাবাদী  হয়ে নিজের মনােবল ফিরে পায় এবং অসুস্থতা কমে যায় ।
৪ । পরবর্তী স্বাভাবিক চিকিৎসা সহজ করে তোলা ।
১ . ৫ প্রাথমিক চিকিৎসার পদ্ধতিঃ
দূর্ঘনাজনিত আঘাত এবং অসুস্থতার ধরন ও তার তীব্রতা অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসার পদ্ধতি ভিন্ন হয় ,
যেমন ( ক ) কেটে যাওয়া বা ছড়ে যাওয়া ,
( খ ) হাড় ভেঙ্গে যাওয়া বা জোড় খুলে যাওয়া ,
( গ ) উঁচু স্থান হতে পড়ে যাওয়া ,
( ঘ ) পানিতে ডুবে যাওয়া ,
( ঙ ) হঠাৎ মূৰ্ছা যাওয়া ,
( চ ) বৈদ্যুতিক শক ।
বৈদ্যুতিক শক ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসাঃ
কোন ব্যক্তির দেহের মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্ৰবাহ হওয়ার ফলে তার হৃদপিণ্ডে ও দেহে যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হয় , তাকে বৈদ্যুতিক শক বলে।
এরুপ ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিম্নরূপ ।

১ । শক প্রাপ্ত ব্যক্তিকে অপেক্ষাকৃত খোলামেলা জায়গায় নিয়ে চিৎ করে মেঝেতে অথবা তক্তপােষে শুইয়ে দিতে হয় ।
২। শকের কারণে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে কৃমিম উপায়ে শ্বাস প্রশ্বাস  চালাতে হয় ,
যার পদক্ষেপ নিম্নরুপঃ
রোগীর পাশে হাটু গেড়ে বসে রােগীর মুখ খুলে ঠোটের সাথে ঠোট মিলিয়ে সজােরে ফু দিয়ে রােগীর ফুসফুসে বাতাস ঢুকিয়ে পরক্ষণে  সরিয়ে নিতে হবে । এভাবে প্রতি মিনিটে ২০ হতে ২৫ ৰাৱ বাতাস ঢুকিয়ে ছেড়ে দিতে হবে । রােগী নিজে নিজে শ্বাস গ্রহণ শুরু করা পর্যন্ত  এ কার্যক্রম চালাতে হবে।
৩ । রােগীর শ্বাসপ্রশ্বাস চালু থাকলে অথবা কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস চালু করার পর রোগীর পায়ের নিচের অংশে দুই হাতের তালু স্থাপন করে চাপ দিয়ে নিশ্বাস ছাড়তে  হয় । চাপ ছেড়ে দিলে নিয়ে নিয়েই শ্বাস গ্রহণ করে প্রতি মিনিটে ২০  হতে ২৫ বার এভাবে চাপ প্রয়োগ করে ছেড়ে দেয়া হয় ।
৪ । শুইয়ে দেয়ার পর থেকে সবসময় রােগীর হাত - পা সহ শরীর ম্যাসেজ করে দিতে হয় যাতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক বা  তার কাছাকাছি থাকে। এবং শরীর ঠান্ডা হয়ে না যায় ।
৬ । শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক এবং মােটামুটি সুস্থ হওয়ার পর রােগীকে গরম দুধ , চা , কফি অথবা অন্য গরম পানীয় পান করাতে দেয়া হয় ।
৭ । রােগীকে প্রয়োজনে হাসপাতালে অথবা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয় ।

Comments

Popular posts from this blog

নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক কাজে সতর্কতা

নিরাপত্তা এবং বৈদ্যুতিক কাজে সতর্কতা (অনুশীলনী-১)